ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ: বদলে যাবে ২২ জেলার সড়ক যোগাযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৩:৫১:০২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৯-২০২৬ ০৩:৫১:০২ অপরাহ্ন
​হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ: বদলে যাবে ২২ জেলার সড়ক যোগাযোগ ​ছবি: সংগৃহীত
উত্তরবঙ্গগামী মানুষের কাছে ‘হাটিকুমরুল’ মানেই এত দিন ছিল দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তি আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময়ের অপচয়। ঈদ, পূজা কিংবা দীর্ঘ ছুটিতে এই মোড়েই আটকে থাকত হাজার হাজার যানবাহন। তবে সেই চেনা দুর্ভোগের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল গোলচত্বর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল। এখান থেকেই রাজধানী ঢাকা, উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যানবাহন চলাচল করে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনের চাপ সামলাতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে এখানে তৈরি হতো তীব্র যানজট। এই সংকট নিরসনে ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্প।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির প্রাথমিক মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে জমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তরসহ নানা প্রশাসনিক জটিলতায় কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের বদলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে বালু ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, এসএমডি ব্রিজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সার্ভিস এলাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ছয়টি সার্ভিস লেন চালু রাখা হয়েছে। এখন মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিন-রাত দুই শিফটে শতাধিক শ্রমিক ও প্রকৌশলী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির শব্দে মুখর পুরো এলাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ পরিচালনা করছে। China Railway Bridge Corporation (CRBC) নামের একটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সাসেক-২ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. সারফরাজ হোসেন বলেন, "আমরা ২৪ ঘণ্টা দুই শিফটে কাজ করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যেই মূল কাঠামোর কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।"

প্রকল্প পরিচালক মো. ওয়ালিউর রহমান জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারই এই প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি বলেন, "জিপিএসভিত্তিক জরিপ পদ্ধতি এবং বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (BIM) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুরো প্রকল্প তদারকি করা হচ্ছে। এতে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্মাণ প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়েছে।"

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ চালু হলে যমুনা সেতুর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের গতি বৃদ্ধি, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং সময় সাশ্রয়ের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদীউজ্জামান বলেন, "ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (ITS) সংযুক্ত করা হলে যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হবে। এতে যানজট কমার পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।"

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, "পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমে গেলে এর সুফল সরাসরি ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাবে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আসবে নতুন গতি।"

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ডিসেম্বরে ইন্টারচেঞ্জটি চালু হলে কেবল সিরাজগঞ্জ নয়, ঢাকা থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২টি জেলার মানুষের যাতায়াত আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। দীর্ঘদিনের যানজটের দুর্ভোগ পেছনে ফেলে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই সড়ক করিডোর প্রবেশ করবে এক নতুন যুগে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ